সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখলকারী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যোগাযোগ করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। স্থানীয় সময় শনিবার এ তথ্য জানান তিনি।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগে এইচটিএস-কে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে জো বাইডেন প্রশাসন এবার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে প্রথমবারের মতো এই পদক্ষেপ নিল।
জর্ডানে মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক এবং পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
ব্লিঙ্কেন জানান, তিনি এইচটিএস-এর সঙ্গে যোগাযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন না। তবে তিনি বলেন, **“যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ হলো গোষ্ঠীটির আচরণ এবং তারা কীভাবে ক্রান্তিকালে শাসন করতে চায় সে সম্পর্কে বার্তা দেওয়া।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ, আমরা এইচটিএস এবং অন্যান্য দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”** তিনি আরও যোগ করেন, **“সিরিয়ার জনগণের প্রতি আমাদের বার্তা হলো: আমরা তাদের সফলতা চাই এবং সাহায্য করতে প্রস্তুত আছি।”
জর্ডানে অনুষ্ঠিত আলোচনায় সিরিয়ার কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে অংশ নেওয়া আটটি আরব দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানান, তারা নিশ্চিত করতে চান যে সিরিয়া একীভূত থাকবে এবং সাম্প্রদায়িক বিভক্তি থেকে মুক্ত থাকবে।
সিরিয়ার টেলিভিশনে শনিবার প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে এইচটিএস নেতা আবু মোহাম্মদ আল-গোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তিনি বলেন, দামেস্কের নতুন কর্তৃপক্ষ পশ্চিমা দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
গত ৮ ডিসেম্বর বিদ্রোহীরা সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক দখল করে। বাশার আল-আসাদ সেদিনই রাশিয়ায় পালিয়ে যান এবং তার ২৪ বছরের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে।
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোহাম্মদ আল–বশিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০২৫ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম জানান, সিরিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর এই রুটটি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে হিজবুল্লাহ নতুন পথ খুঁজে বের করার পরিকল্পনা করছে। একইসঙ্গে তারা সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ভবিষ্যতে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আশা করছে।
