স্টাফ রিপোর্টার,উম্মে সালমা:
রাজধানীতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, জিম্মি করে চাঁদা আদায় এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া হ্যানিট্র্যাপ চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৩। গ্রেপ্তারকৃত মো. ফাহিম (২৬) অপহরণ ও চাঁদাবাজি মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর মুগদা থানার মানিকনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সবুজবাগ থানার উত্তর মানিকনগরের বাসিন্দা।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাহিম রাজধানীতে সক্রিয় একটি হ্যানিট্র্যাপ ও অপহরণকারী চক্রের সদস্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলে অপহরণ, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল চক্রটির প্রধান কৌশল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী সাগর হোসেন (২৮) ফেসবুকে একটি সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে সেখানে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করেন। এরপর ফাহিম তাকে শিক্ষাসনদসহ মালিবাগ রেলগেটে আসতে বলেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর অফিসে নেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে কৌশলে অপহরণ করে হাতিরঝিল থানার নয়াটোলার রহমান ভিলার একটি বাসায় আটকে রাখা হয়।
সেখানে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে কল করে ভুক্তভোগীকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তার মোবাইল ফোন, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি, রুপার ব্রেসলেট এবং নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ১৬ মার্চ হাতিরঝিল থানায় অপহরণ, অবৈধভাবে আটক, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার তদন্তের স্বার্থে হাতিরঝিল থানার অধিযাচনের ভিত্তিতে র্যাব-৩ গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ফাহিমের অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের দাবি, ফাহিম ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে একই কৌশলে অসহায় ও চাকরিপ্রত্যাশী ব্যক্তিদের টার্গেট করে অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃত ফাহিমের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
