মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি-এ দুই দেশের নৌবাহিনীর পাল্টাপাল্টি হামলার খবরে শুক্রবার (৮ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রিনিচ মান সময় ০৩:৯৬ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল প্রতি ব্যারেল ১.২০ ডলার বা ১.২ শতাংশ বেড়ে ১০১.২৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুড ৮৫ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫.৬৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
দিনের শুরুতে তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বাড়লেও পরে কিছুটা স্থিতিশীল হয়। তবে সামগ্রিকভাবে চলতি সপ্তাহে উভয় চুক্তির দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমার পথে রয়েছে।
দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনাকেই দায়ী করা হচ্ছে। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র তাদের তেলবাহী জাহাজ ও উপকূলীয় এলাকায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইরান প্রথমে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয়, ফলে এই অঞ্চলের সংঘাত সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের গতিপথ নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর।
