ঢাকাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ৪:১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তাইওয়ানে ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’, ফিলিপাইনে নিহত ১৫

সত্যের কন্ঠ
জুলাই ১০, ২০২৬ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
পঠিত: 26 বার
Link Copied!

য়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দিকে ধেয়ে আসতে থাকায় তাইওয়ানে দুই হাজারের বেশি মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টাইফুনের প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসে ফিলিপাইনে ১৫ জন নিহত হয়েছে।

টাইফুনটি আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) এবং আগামীকাল শনিবার তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব অংশে এবং সেইসাথে জাপানের দূরবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিমের দ্বীপপুঞ্জগুলোতে আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরপর এটি চীনে আঘাত হানতে পারে। দেশটিতে চলতি সপ্তাহে মারাত্মক ঝড় বয়ে গেছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টাইফুন বাভির প্রভাবে সৃষ্ট ভারি বর্ষণের ফলে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ মিন্দানাওতে দুটি পৃথক ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত এবং আরও ছয়জন নিখোঁজ রয়েছে।

তাইওয়ানের বন্দর নগরী কিলুংয়ের বাসিন্দারা খাবার মজুত করছেন, জানালার কাঁচে টেপ লাগাচ্ছেন এবং দোকানগুলোর সামনে বালুর বস্তা স্তূপ করে রাখছেন। তারা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলছেন।

কিলুংয়ের ৭৬ বছর বয়সী মুদি দোকানি চ্যাং শিহ-হুও বলেন, ‘আমরা কিছু ইনস্ট্যান্ট নুডলস, রুটি এবং এই জাতীয় জিনিসপত্র মজুত করে রেখেছি। বাতাস ও বৃষ্টি যখন সত্যিই বাড়তে শুরু করবে, তখন আমাদের দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’

গত সোমবার ‘বাভি’ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন শাসিত দ্বীপপুঞ্জ গুয়াম এবং উত্তর মারিয়ানায় ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে আঘাত হানে। এরপর প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় কিছুটা দুর্বল হয়ে সাধারণ টাইফুনে পরিণত হয় এটি।

তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, শুক্রবার বাভির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ কমে ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার হয়েছে এবং দমকা হাওয়ার গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৯০ কিলোমিটার।

সিডব্লিউএ’র আবহাওয়াবিদ ওয়াং পিং-হসিয়াং জানান, পরিবেশগত পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় টাইফুনটি আরও দুর্বল হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে তাইপে, নিউ তাইপে, কিলুং এবং ইলানে। আর সবচেয়ে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে মধ্য ও উত্তর তাইওয়ানের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর জন্য।’

বাভি’র তীব্র বাতাসের ব্যাসার্ধ ৩৮০ কিলোমিটার হওয়ায় এটি গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় টাইফুন হতে যাচ্ছে। শুক্রবার উত্তর ও পূর্ব তাইওয়ানজুড়ে অনেক স্কুল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়। কিলুং-এ স্থানীয় বাসিন্দারা ফল ও সবজি কিনতে কাঁচাবাজারে ভিড় করেন, রাস্তার হকাররা তাদের দোকানগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

 

টাইফুন বাভির প্রভাবে প্রায় এক মিটারের কাছাকাছি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য বন্যা এবং ভূমিধসের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

টাইফুনের কারণে সাগরে নয় মিটার (৩০ ফুট) পর্যন্ত উঁচু ঢেউ ওঠায় লোকজনকে উপকূল থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাইওয়ানে দুই হাজারের বেশি মানুষকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগই তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড়ি কাউন্টি হুয়ালিয়েনের বাসিন্দা। সেখানে কর্তৃপক্ষ দুটি কৃত্রিম বাঁধের ওপর নজর রাখছে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে ‘বাভি’র আঘাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন এলাকার মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্বীপদেশটিতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ২৮ হাজারের বেশি সেনা সদস্যের পাশাপাশি যন্ত্রপাতি, উদ্ধার সরঞ্জাম এবং যানবাহন প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের প্রত্যন্ত সাকাশিমা দ্বীপপুঞ্জে টাইফুনটি এগিয়ে আসার সাথে সাথে কিছু এলাকায় স্কুল ও অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সেখানে উঁচু ঢেউ, ঝড় ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছেন।

মিয়াকো দ্বীপের একটি হোটেলে কর্মরত মাসারু নাকামুরা বলেন, ‘আমরা জিনিসপত্র জাল দিয়ে ঢেকে রেখেছি যাতে সেগুলো উড়ে না যায়… ঝড়টি এখন ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে।’

ওকিনাওয়া দ্বীপের প্রধান শহর নাহা-তে ওয়াটার স্পোর্টস এবং বারবিকিউ ব্যবসার মালিক কোকি ওহামা বলেন, এই ঝড়ের কারণে তার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ৩০ বছর বয়সী ওহামা বলেন, ‘এই সপ্তাহের ছুটির দিনগুলোর জন্য আমাদের সব বুকিং পূর্ণ ছিল, কিন্তু বুকিংগুলো সব বাতিল হয়ে গেছে। তাই এটি বেশ কষ্টদায়ক।’

জাপানি দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানার পর এবং তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত পেরিয়ে যাওয়ার পর, ‘বাভি’ এই সপ্তাহের শেষের দিকে পূর্ব চীনের স্থলভাগে আঘাত হানবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে চরম আবহাওয়া ইতিমধ্যেই দক্ষিণ ও মধ্য চীনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। সেখানে ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন, ডজনখানেক নদী উপচে পড়েছে এবং একটি জলাধারের বাঁধ ভেঙে গেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস মেরিন সার্ভিস গত সপ্তাহে জানিয়েছে, সাগরে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম জুন মাস রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে এটি নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

উষ্ণ সমুদ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোকে আরও শক্তিশালী হতে সাহায্য করে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে ভারি বৃষ্টিপাত হিসেবে ঝরে পড়ে।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে চলতি বছরে ‘এল নিনো’র প্রত্যাবর্তন। এটি একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া যা প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ঘটে থাকে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।