আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের কানসাস সিটিতে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। মেগা এই টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে ঘটে যাওয়া এই সহিংস ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ফুটবল দলগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কানসাস সিটি পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শনিবার ভোরে ট্রুস্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আহতদের উদ্ধার করে। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় অন্তত তিনজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলার সাথে জড়িত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
**আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দলের বেস ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা**
গোলাগুলির এই ঘটনাস্থলটি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের বেস ক্যাম্প থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে হলেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শহরজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনা দল বর্তমানে তাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি হিসেবে কানসাস সিটির ‘স্পোর্টিং কেসি ট্রেনিং সেন্টারে’ নিবিড় অনুশীলন করছে।
অন্যদিকে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জন্য নির্ধারিত বেস ক্যাম্প ‘সোয়োপ সকার ভিলেজ’–এর কাছাকাছি এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটায় বিষয়টি আরও বেশি সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও ইংল্যান্ডের মূল দলটি এখনো কানসাস সিটিতে এসে পৌঁছায়নি। তারা বর্তমানে তাদের পরবর্তী প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার জন্য ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে অবস্থান করছে, যেখানে কোস্টারিকার বিপক্ষে তাদের একটি ম্যাচ রয়েছে।
**যুক্তরাষ্ট্রের বন্দুক সহিংসতা ও নিরাপত্তা প্রশ্ন**
কানসাস সিটি পুলিশের তথ্যমতে, গুলিবর্ষণের ঘটনাটি স্থানীয় সময় ভোর আনুমানিক চারটার দিকে ঘটে। ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য মেলেনি।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের ফুটবলার ও অফিশিয়ালদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ, দেশটিতে বন্দুক সহিংসতা একটি দীর্ঘদিনের ও চলমান সমস্যা। বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরও দেশটিতে শতাধিক এমন গণ-সহিংসতার (Mass Shooting) রেকর্ড পাওয়া গেছে।
তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা এবং দলগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (FA) বা ফিফার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
