ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৬:১০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের আঞ্চলিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ: সিরিয়ার পতনের পরবর্তী বাস্তবতা

সত্যের কন্ঠ
ডিসেম্বর ১৫, ২০২৪ ১:৪১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 217 বার
Link Copied!

গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের অবসানের মাধ্যমে ইরান তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্রকে হারায়। এই ঘটনা ইরানের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে দামেস্কে ইরানি দূতাবাসে হামলা এবং কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু একই ধরনের আঘাতের চিত্র তুলে ধরেছিল।

তবে আসাদ সরকারের পতনের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি প্রথম ভাষণে দৃঢ় অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “ইরান শক্তিশালী আছে এবং আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।” এছাড়া তিনি ঘোষণা দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ আরও শক্তিশালী হবে।

‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি নেটওয়ার্ক, যেখানে হামাস, হেজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ারা অন্তর্ভুক্ত। তবে সিরিয়ার পরিস্থিতির পর এই নেটওয়ার্কের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জেমস জেফরি বলেন, “সিরিয়ার ঘটনায় ইরানের প্রতিরোধ জোট তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে।”

যদিও ইরান এখনও ইরাকের শক্তিশালী শিয়া মিলিশিয়াদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, জেফরি একে আঞ্চলিক আধিপত্যের পতন হিসেবেই দেখছেন।

ইরান দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। ২০১১ সালের গৃহযুদ্ধের সময় ইরান যোদ্ধা, অস্ত্র ও জ্বালানি সরবরাহ করেছিল। সেই সময়ে দুই হাজারেরও বেশি ইরানি সেনা নিহত হন। গবেষক ড. সানাম ভাকিল বলেন, “সিরিয়ায় ইরানের বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৩০০০ কোটি থেকে ৫০০০ কোটি ডলার। তবে এই কৌশল ব্যর্থ হয়েছে।”

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ জানায়, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৬০ শতাংশে নিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরান চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যেই অস্ত্র-গ্রেড ইউরেনিয়াম প্রস্তুত করতে পারে। যদিও বোমার জন্য ওয়ারহেড তৈরি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনে আরও সময় লাগবে।

অভ্যন্তরীণভাবে ইরান ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, মুদ্রাস্ফীতি এবং জনসাধারণের চাপের মুখে রয়েছে। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিক্ষোভ ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। নারীদের প্রতি কঠোর হিজাব আইন এবং বিরোধী কণ্ঠ রোধে সরকারের দমন-পীড়ন আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ড. ভাকিলের মতে, খামেনির উত্তরাধিকার ইরানের ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামো নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের শাসনব্যবস্থার শিগগিরই পতন ঘটবে না।

সিরিয়ায় মিত্র হারানো, আঞ্চলিক প্রভাবের সংকোচন এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলায় ইরানকে কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। তবে ইরান এখনো আঞ্চলিক শক্তি হিসেবেই টিকে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপই মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ নির্ধারণ করবে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।