দেশের আদালত, বিচারক এবং আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রবেশপথে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর বসানো হচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আদালত প্রাঙ্গণ ও বিচারকদের বাসভবনের আশপাশে বাড়তি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির টহলও জোরদার করা হয়েছে।
**সাম্প্রতিক ঘটনাবলি:**
২৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যাকাণ্ড এবং পরদিন হাইকোর্টে বিচারপতি মোহাম্মদ আশরাফুল কামালের এজলাসে ডিম ছোড়ার ঘটনায় আদালত-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ দেশের সব আদালত, বিচারক ও আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
**নিরাপত্তা ব্যবস্থা:**
– সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনায় দেশের সব আদালত ও বিচারকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
– বিচারকদের বাসভবনে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।
– আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আদালত প্রাঙ্গণ ও বাসভবনের চারপাশে তল্লাশি চালাচ্ছে।
– চট্টগ্রামের আদালত এলাকায় ওয়াচ টাওয়ার বসানো হয়েছে, যেখানে শক্তিশালী বাইনোকুলার দিয়ে নজরদারি চলছে।
– যেসব আইনজীবী স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনা করেন, তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে।
**গোয়েন্দা তথ্য ও প্রস্তুতি:**
ঢাকা বার কাউন্সিল ও মেট্রোপলিটন বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে আইনজীবীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য তাদের নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
**বিশেষ গুরুত্ব:**
সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী ও বিজিবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবে।
**আইনজীবীদের বিশেষ আবেদন:**
বিচার বিভাগের অধীনে বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের দাবি উঠেছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মতে, শঙ্কামুক্ত পরিবেশে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য এমন বাহিনী সময়ের দাবি।
এই পদক্ষেপগুলো দেশের বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
