পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার হরমুজ প্রণালি-তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছে ইরান বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর বরাতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইরান ড্রোন, দ্রুতগামী বোট ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে ত্রিমুখী হামলা চালায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা এই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর আর্লে বার্ক-ক্লাসের তিনটি ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ট্রক্সটুন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা ও ইউএসএস মেসন—লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে জানা যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো অত্যন্ত সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং আক্রমণকারী বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ডেস্ট্রয়ারগুলো তাদের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এসব জাহাজে থাকা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, মার্কিন বাহিনী প্রথমে তাদের ভূখণ্ড ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপ, বন্দর খামির ও সিরিক এলাকার বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি-তে সংঘাতের প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
