ঢাকাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:১০
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সয়াবিনের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা, নতুন প্রস্তাব ট্যারিফ কমিশনে

সত্যের কন্ঠ
জানুয়ারি ২৩, ২০২৫ ১২:৩৪ অপরাহ্ণ
পঠিত: 89 বার
Link Copied!

বাংলাদেশে এসে সব বাণিজ্যিক যুক্তি যেন হার মানে। যেমন ভোজ্যতেলের উদাহরণ ধরা যাক। গত অক্টোবর ও নভেম্বরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম দুই দফায় বেড়ে বুকিং রেট দাঁড়ায় ১,১৪৫ ডলার। তবে ডিসেম্বরে সেই দাম কমে হয় ১,০৬৪ ডলার। দেশে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার দুই দফা শুল্ক কমালেও ডিসেম্বরে সয়াবিন তেলের দাম কমেনি, বরং বেড়েছে।

এরপর কিছুদিন সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা আবার কমেছে। ঢাকার টাউনহল বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের পরিচিত কার্টনের স্তূপ আর দেখা যায় না। পরিবর্তে রাইস ব্র্যান ও সানফ্লাওয়ার তেলের আধিক্য দেখা যাচ্ছে। ডিলাররা হিসাব করে পণ্য সরবরাহ করছে। উদাহরণস্বরূপ, এক প্রতিষ্ঠানের ৫ লিটারের বোতল পেলে অন্য প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে কেবল ১-২ লিটারের প্যাকেজ।

ডিসেম্বরে সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর পরও উৎপাদকরা অসন্তুষ্ট। তারা আবার দর সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছে ট্যারিফ কমিশনে। তবে সিদ্ধান্ত আসার আগেই বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। মিলগেট কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তেলের সাথে পোলাওয়ের চাল কিনতে বাধ্য করছে কিছু কোম্পানি।

এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, ক্রেতাদের তেল ও পোলাওয়ের প্যাকেজ নিতে বললে তারা নেন না। কিন্তু আমরা শুধু তেল বিক্রি করতে পারছি না। আমাদেরও এই প্যাকেজ কিনতে হচ্ছে।

অন্য একজন খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, তেলের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। এই দামেই অনেকে হিমশিম খাচ্ছেন। তাই তারা খোলা তেল দিয়েই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।

পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার সবসময় পাইকারি ভোজ্যতেল বেচাকেনায় সরগরম থাকে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জটলা সয়াবিন তেলের ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) কিনতে। সেই ডিও মিলগেটে দেখালেই তেলের চালান মেলে। কিন্তু ইদানীং সেই সরবরাহ কমে গেছে।

সেখানে তেল কিনতে যাওয়া এক ব্যবসায়ী বলেন, কোনো মিল সঠিকভাবে মাল দিচ্ছে না। তারা না দেওয়ায় বাজারের এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমাদের কোনো বেচাকেনা নেই।

ভোজ্যতেলের সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগ মিল মালিকদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও একই চাপের মুখে পড়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর মিল মালিকদের সাথে বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তারপরও বাজারে যোগান স্বাভাবিক হয়নি।

গত ৬ জানুয়ারি, ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য ট্যারিফ কমিশনে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে মিল মালিকদের সংগঠন।

এ বিষয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মাওলা বলেন, ডলারের যে রেট তাতে আমাদের পোষাচ্ছে না। এ কারণে দাবি-দাওয়া বাড়ালে সুবিধা হবে। ট্যারিফ কমিশন, আন্তর্জাতিক বাজার যাচাই করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও মিল মালিক অ্যাসোসিয়েশন বসে একটি নির্দিষ্ট রেট ঠিক করবে।

মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ মো. বশির উদ্দিন বলেন, সরকার শুল্ক কমিয়েছে। এতে কেজি প্রতি ১০-১২ টাকা দাম কমার কথা। কিন্তু কমেনি। আবার বাড়ালে ১০-১২ টাকা আরও বাড়বে। লাভবান হচ্ছে কেবল তাদেরই। আমরা বা ভোক্তারা হচ্ছি না।

উৎপাদক কোম্পানি বা তাদের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। তবে জানিয়েছে, সাত দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।