আলভী মাহমুদ আলিফ, প্রতিনিধি :
রাজধানীর সূত্রাপুর এলাকায় তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত যুবক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির সূত্রাপুর থানা পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) রাত ১:১০টা থেকে ভোর ৭:০০টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সূত্রাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন বিকেল ৪টার দিকে বিবিকা রওজা ইমামবাড়া থেকে একটি তাজিয়া মিছিল সূত্রাপুর, চকবাজার ও লালবাগ হয়ে ধানমন্ডির উদ্দেশে রওনা হয়। বিকেল আনুমানিক ৪:৪৫টায় মিছিলটি বাংলাবাজারের পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচতলা অতিক্রম করার সময় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবককে এলোপাতাড়ি মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। পরে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত মো. জাকির হোসেন (৩১) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই অজ্ঞাতনামা ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে সূত্রাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে সূত্রাপুর থানার একাধিক টিম রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত মো. রাশেদ (২০) এবং আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত তিন শিশুকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি চাপাতি এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত পোশাক উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তাজিয়া মিছিলে থাকা ডুলির রশি ধরাকে কেন্দ্র করে নিহত জাকির হোসেনের সঙ্গে হামলাকারীদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাকে ধাওয়া করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি পি কে রায় রোডের ইস্পাহানি ভবনের নিচে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
