ঢাকাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ১১:০৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‎হীরাঝিল হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগ (পর্ব ০২)

সত্যের কন্ঠ
জুলাই ১৯, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ণ
পঠিত: 51 বার
Link Copied!

‎মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির :

‎রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিল। সেখানে অবস্থিত খাবার রেস্তোরা হীরাঝিল হোটেলের বিরুদ্ধে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ব্যবসা পরিচালনা, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং, পরিবেশদূষণ এবং তথ্য সংগ্রহে আসা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের এ সকল কার্যকলাপের ভিত্তিতে তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হোটেলটিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ এসব খাবার প্রতিদিন অসংখ্য ভোক্তা ও ক্রেতার কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, হোটেলের রান্নাঘর থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়া ভবনের বাইরের অংশ দিয়ে সরাসরি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ধোঁয়া নির্গমনের চিমনি বা এক্সহস্টের মুখ ফুটপাতমুখী করে স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ফুটপাত দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের মুখের ওপর সরাসরি কালো ধোঁয়া এসে পড়ছে, যা তাদের জন্য চরম অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কালো ধোঁয়ায় ক্ষতিকর কণা ও বিভিন্ন দূষিত উপাদান থাকতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রসহ মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের জন্য ক্ষতিকর । পাশাপাশি এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত ধোঁয়া নির্গমন বায়ুদূষণ বৃদ্ধি করে পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে কালো ধোঁয়া নির্গত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। অনুসন্ধানী দলের পক্ষ থেকে হোটেলটির রান্নাঘর ও খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশ পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করা হলে কর্তৃপক্ষ সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিতে বাধা বা অপারগতা প্রকাশ করে। এতে খাদ্য প্রস্তুতের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্য প্রস্তুতের স্থান পরিদর্শনে অনীহা অভিযোগগুলোর সত্যতা নিয়ে আরও কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করছে।

‎সরেজমিনে দেখা যায়, হীরাঝিল হোটেল যে ভবনে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি পরিত্যক্ত ও  ঝুঁকিপূর্ণ  ভবন। ভবনের উপরের তলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে, আর নিচের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় হোটেলের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এমন একটি কথিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হওয়ায় ক্রেতা ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভবনটির নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে ইতোমধ্যে রাজউকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পরও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জননিরাপত্তার স্বার্থে ভবনটির প্রকৃত অবস্থা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতি জরুরি।

‎তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ‘সত্যের কণ্ঠ’-পত্রিকা এর একটি প্রতিনিধি দল হীরাঝিল হোটেলে গেলে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে  নিরাপদ খাদ্য সনদ, পরিবেশগত ছাড়পত্র, শ্রম লাইসেন্স, শ্রমিকদের মেডিকেল সার্টিফিকেট,  রাস্তা দখল  এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র দেখতে চাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি যাচাই করতে সরেজমিনে গেলে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখতে চাওয়া হয়।  কর্তৃপক্ষ এসব নথিপত্র প্রদর্শনে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের কাগজপত্র কেন দেখাব?”—এমন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহে অসহযোগিতা করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও দুর্ব্যবহারমূলক আচরণ করেন।

‎সরেজমিনে আরও দেখা যায়, হোটেলটির সামনে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যানবাহন পার্কিং করা হচ্ছে। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বলেন, “আশেপাশে সবাই তো এভাবেই পার্কিং করছে।”

‎তবে সচেতন মহলের মতে, অন্যরা একই কাজ করছে—এটি কোনোভাবেই আইন বা নিয়ম লঙ্ঘনের গ্রহণযোগ্য অজুহাত হতে পারে না। রাজধানীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং জনভোগান্তি বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকেও ব্যাহত করছে।

‎রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত হীরাঝিল হোটেলকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে ইতোমধ্যে দৈনিক একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

‎স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, হীরাঝিল হোটেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।