ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সন্ধ্যা ৭:০৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ইসরায়েলের কৌশলগত ভূমিকা

সত্যের কন্ঠ
ডিসেম্বর ১১, ২০২৪ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
পঠিত: 86 বার
Link Copied!

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকেই ওই অঞ্চলে ইসরায়েল তাদের সামরিক কার্যক্রম বাড়িয়েছে। গোলান বাফার জোন সাময়িকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া ছাড়াও সিরিয়াজুড়ে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দামেস্ক থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। তবে, এই তথ্য ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অস্বীকার করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আসাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় একে “মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ঐতিহাসিক দিন” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে তিনি সতর্কতার সুরে বলেন, “যারা ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চায়, তাদের জন্য আমরা শান্তির হাত বাড়িয়ে দেব। তবে, নিজেদের রক্ষা করার জন্য যা প্রয়োজন, তা করতে আমরা প্রস্তুত।”

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে আসাদের পতন কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন উভয়েই এ ঘটনায় ভূমিকা রাখার দাবি করেছেন। তবে, বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাদের প্রচেষ্টা পরিকল্পিত হওয়ার চেয়ে ঘটনাচক্রে বেশি কার্যকর হয়েছে।

ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান

সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন ইরান এবং হেজবুল্লাহর মতো শক্তির ওপর ইসরায়েলের হামলার প্রত্যক্ষ ফল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরান-সমর্থিত অস্ত্রাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে এবং হেজবুল্লাহর অস্ত্র সরবরাহ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার পরিবর্তন ইরানের জন্য বড় ধাক্কা। ইরানের “প্রতিরোধের অক্ষ” (Axis of Resistance)-এর অংশ হিসেবে থাকা গোষ্ঠীগুলো যেমন হেজবুল্লাহ, হামাস, ও ইয়েমেনের হুথি, ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার শিকার হয়েছে। ফলে, ইরানের আঞ্চলিক শক্তি অনেকটা কমে এসেছে।

গোলান মালভূমির গুরুত্ব

গোলান মালভূমি ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি থেকে দামেস্কসহ সিরিয়ার দক্ষিণ অংশ সহজে নজরদারি করা যায়। ইসরায়েল ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে এটি দখল করে এবং ১৯৮১ সালে একতরফাভাবে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা দেয়। যদিও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে স্বীকৃতি দেয়নি, ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর স্বীকৃতি দেন।

আসাদের পতনের পর গোলানের বাফার জোনে ইসরায়েলি সৈন্যদের প্রবেশকে কৌশলগত সুবিধা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ আরব দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

সিরিয়ার পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে কীভাবে ইসরায়েলকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।