আলভী মাহমুদ আলিফ, প্রতিনিধি :
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বৃদ্ধ দম্পতিকে জিম্মি করে ৩২ লাখ টাকা ও ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুটের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি ফজলে আহমেদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ রাতে নওগাঁর পোরশা উপজেলার এক নিঃসন্তান বৃদ্ধ দম্পতিকে ছুরির ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে তাদের বাসা থেকে জমি বিক্রির গচ্ছিত ৩২ লাখ টাকা এবং ১১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় তাদের আত্মীয় ফজলে আহমেদ ও তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বাদী হয়ে ফজলে আহমেদ, তার পিতা গোলাম সারোয়ার ও স্ত্রী ফাতেমা খাতুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পোরশা থানায় ডাকাতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা রুজু হওয়ার পর তদন্তভার পিবিআই নওগাঁ জেলার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় পিবিআই গত ১২ জুলাই নওগাঁ সদর থানার বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফজলে আহমেদ ও গোলাম সারোয়ারকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফজলে আহমেদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, দীর্ঘদিন একই বাড়িতে বসবাসের সুবাদে বৃদ্ধ দম্পতির আস্থা অর্জন করেছিলেন ফজলে আহমেদ ও তার স্ত্রী। বার্ধক্যজনিত কারণে বৃদ্ধ দম্পতিকে দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা গভীর রাতে কক্ষে প্রবেশ করে ছুরির মুখে জিম্মি করে আলমারির চাবি নিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পলাতক আসামি ফাতেমা খাতুনকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।
