ঢাকাবুধবার, ২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, রাত ১০:২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

“‎বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের অনিয়মের অন্ধকারে প্রশ্নের পাহাড়”

সত্যের কন্ঠ
জুলাই ৬, ২০২৬ ৪:৩১ অপরাহ্ণ
পঠিত: 166 বার
Link Copied!

উম্মে সালমা, প্রতিনিধি : 

‎‎আলোচিত ফাহিম হত্যা মামলার তদন্তে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসকে ঘিরে একের পর এক নতুন অভিযোগ ও তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত যেন কেবল হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নেই—বরং অনুসন্ধানের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগও প্রকাশ্যে আসছে। ‎২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আশা, যিনি তাঁর কন্যার নামানুসারে প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করেন। পরবর্তীতে ২০১৯ সালে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা নাসরিনের কাছে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা হস্তান্তর করা হয় বলে জানা যায়। ‎এ বিষয়ে শামীমা নাসরিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে  মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব নিবন্ধিত লাইসেন্স নেই, বরং বিভিন্ন কলকারখানার অনুমোদনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানান শামীমা নাসরিন। ‎

প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, বেসরকারি সিকিউরিটি সেবা পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)-এ নিবন্ধন সম্পন্ন করা আবশ্যক। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন, বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্তাবলি কঠোরভাবে প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। ‎তবে শামীমা নাসরিনের এই বক্তব্য নতুন করে একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক যে ‘কলকারখানা’ থেকে অনুমোদন নেওয়ার কথা বলেছেন, সেটি কোন কর্তৃপক্ষের, কোন আইনের আওতায় এবং কী ধরনের অনুমোদন—তা স্পষ্ট করতে পারেননি শামীমা নাসরিন।  সাধারণত এ ধরনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন বা অনুমোদন নম্বর থাকে। তবে এ বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ চাওয়া হলে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীমা নাসরিন কোনো নিবন্ধন বা অনুমোদন নম্বর উপস্থাপন করতে পারেননি।
‎‎এছাড়া অনুসন্ধানে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর,  রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস লিমিটেড এবং চৌধুরী গ্রুপসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হারে জনবল নিয়োগ দিয়েছেন। এই জনবল নিয়োগ চলমান রয়েছে।

তবে এখানেই দেখা দিয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একটি অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান কীভাবে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হারে জনবল নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছেন। তাহলে সেই কার্যক্রম কোন আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি, লাইসেন্স ও নিবন্ধনের বৈধতা কোথায়? নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা ও আইনি বৈধতা নিশ্চিত করতে কী ধরনের অনুমোদন গ্রহণ করা হয়েছে? নাকি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়াই প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে প্রশাসনের নাকের ডগার   সামনে দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—এ প্রশ্নের উত্তর এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠেছে, বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের মাধ্যমে ব্যাপক পরিসরে অবৈধ আউটসোর্সিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দেব শঙ্কর বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের সহযোগিতায় প্রায় আড়াই শতাধিক জনবল নিয়োগ দিয়েছেন। তবে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস নামে ব্যাপক আকারে  অবৈধ আউটসোর্সিং চালাচ্ছেন, জানা গেছে দেব শঙ্কর অবৈধভাবে লোক  নিয়োগ দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকারও অধিক  টাকা কামিয়ে নিয়ে গেছে  বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের থেকে । দেব শঙ্করকে জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্তের আওতায় আনা হলে বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং অনিয়ম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অনিয়মের গভীরতার সন্ধান  পাওয়া যাবে।

‎‎বিশেষ সূত্রে জানা যায়, দেব শঙ্কর অতি শীঘ্রই দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছে। ‎তাই অতি দ্রুত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।