শামীম আহমেদ, পাবনা জেলা প্রতিনিধি : পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ধাক্কায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি অটোরিকশা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এই ঘটনার একদিন পর বাস চালককে জরিমানা করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস বোঝাই করে শহরে তান্ড চালায় শিক্ষার্থীরা। এ সময় পাবনা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এতে দুর্ভোগে পড়েন শহরবাসী। প্রায় এক ঘন্টা ধরে চলা এই অবরোধ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃৃবন্দেরর হস্তক্ষেপে তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত পাবনা শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে এ ঘটনা ঘটে। জরিমানা করার মধ্যস্থাকারী পান্তয়া সুইট মিটের ম্যানেজার ক্ষমা চাইলে দুপুর সোয়া ১টার দিকে অবরোধ তুলেন নেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে আব্দুল হামিদ রোডের পান্তয়া সুইট মিটের সামনে একটি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমরে মুচরে যায়। এ সময় পাশের পান্তয়া সুইট মিটের ম্যানেজার নাজিরউদ্দিন জ্যাকিসহ আশপাশের লোকজন এসে বাসটি আটকায় এবং এক হাজার টাকা জরিমানা জরিমানা করে অটো রিকশা ওয়ালাকে দেয়।
এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার দুপুরে তিনটি বাস বোঝাই করে অসংখ্য শিক্ষাথী মধ্যে সড়ক অবরোধ করে এবং পান্তয়ার ম্যানেজার নাজিরউদ্দিন জ্যাকিসহ কর্মচারীদের মারধর করে এবং গোটা শহরে তান্ডব চালায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) মাসুদ আলম, সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধা বালা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আকামাল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান সবুজ, পাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বাবু। তারা শিক্ষার্থী ও পান্তয়া কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তাদের মধ্যস্থতায় পান্তয়ার ম্যানেজার নাজিরউদ্দিন জ্যাকি নিশর্ত ক্ষমা চাইলে অবরোধ তুলেন নেন শিক্ষার্থীরা।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ) মাসুদ আলম বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘গতকালের তুচ্ছ ঘটনায় আজকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং পান্তয়ার ম্যানেজারসহ কর্মচারীদের মারধর করেন। এমনকি গোটা শহরে তান্ডব অবস্থা সৃষ্টি করে। আমরা আপাতত বিষয়টি সমাধান করেছি এবং এখন স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি বাস শহরের প্রাণকেন্দ্র দিয়ে যাতায়াত করায় মাঝেমধ্যেই এই সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসবো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আকামাল হোসেন বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থী ও পান্থয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করেছি। এখন বাস চলাচলের বিষয়টি আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
উল্লেখ্য, পাবনা শহরের প্রাণকেন্দ্র আব্দুল হামিদ রোড। সংকীর্ণ এই সড়কের দুইপাশেই শহরর মূল শপিংমল ও বাজারগুলো। দিনের বেলায় এই সড়ক দিয়ে বাস-ট্রাকসহ বড় ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই এই সড়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১০টি বাস চলাচল করে। এতে দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষদের। মাঝেমধ্যেই স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হয়।
