ঢাকাবৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, সকাল ৮:১৪
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগর উন্নয়নবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রাজউকের কঠোর অভিযান

সত্যের কন্ঠ
জুন ২২, ২০২৬ ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
পঠিত: 131 বার
Link Copied!

উম্মে সালমা,স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ নিশ্চিত করতে নগর উন্নয়নবিধি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদনবিহীন নির্মাণ, নকশা বহির্ভূত ভবন এবং দখল-দূষণের মতো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।

রাজধানীর ধোলাইপাড়, দনিয়া, জুরাইন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে অনুমোদনহীন নির্মাণ কাজ ও অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ে ভবন নির্মাণের অভিযোগে একাধিক স্থাপনা পরিদর্শন করা হয়। এ সময় বিধি লঙ্ঘনের বিভিন্ন অনিয়ম শনাক্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে রাজউক।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জোন–৭/১ এর উদ্যোগে রাজধানীর ধোলাইপাড়, জুরাইন ও কদমতলী এলাকায় অনুমোদনহীন ও নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) পরিচালিত এ অভিযানে মোট ১২টি ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১০টি ছিল নির্মাণাধীন এবং ২টি ছিল নির্মিত ভবন।
অভিযানকালে অবৈধভাবে ব্যবহৃত ১১টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ করা হয়।

সরেজমিনে পরিদর্শনের সময় ধোলাইপাড় প্রধান সড়ক সংলগ্ন মক্কা টাওয়ার ভবনে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনার বিষয়টি প্রতীয়মান হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে একটি ভবনের মালিকপক্ষকে ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কারণে ২০১৯ সালে সতর্কবার্তা এবং ২০২২ সালে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হলেও অনিয়ম বন্ধ হয়নি।

সর্বশেষ অভিযানে পুনরায় ৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবনটির বিদ্যুৎ বিল এর বকেয়া ৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করার নির্দেশ দেয়া হয়। ভবিষ্যতে আইন লঙ্ঘন করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার জরিমানার পরও অনিয়ম অব্যাহত থাকায় নগর উন্নয়নবিধি বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জুরাইনের লাল মিয়া সরদার রোডে অবস্থিত একটি ভবনে পরিচালিত অভিযানে রাজউকের অনুমোদিত নকশা ব্যতীত নির্মাণকাজ পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং নগর উন্নয়নবিধি প্রতিপালনের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনাকালে ভবনটির নিচতলায় অবৈধ ফোরফট্টি লাইনের কারখানা চালানোর সত্যতাও পাওয়া যায়। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মন্তব্য করেন, অনুমোদিত নকশা ছাড়া যেখানে ভবন নির্মাণই বিধিবহির্ভূত, সেখানে একই ভবনে অবৈধ কারখানা পরিচালনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং আইন লঙ্ঘনের শামিল।

“অভিযানকালে জুরাইন মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডস্থ অননুমোদিত একটি ভবন পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, রাজউক অনুমোদিত নকশায় কোনো দোকান বা বাণিজ্যিক স্থাপনার অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও সেখানে দোকানপাট পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভবনটিতে পরিচালিত সকল দোকানপাট অবিলম্বে বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে অনুমোদিত নকশার পরিপন্থী সকল নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রেখে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।”

অন্য আরেকটি ভবন পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, ভবনটির রাজউক অনুমোদিত কোনো নকশা নেই। এ অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় চলমান অননুমোদিত নির্মাণকাজ শনাক্ত হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট অংশে ব্যবহৃত অবৈধ নির্মাণসামগ্রী অপসারণসহ আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থাপনার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অনুমোদন গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে অনুমোদিত নকশা অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ বাধ্যতামূলক। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনুমোদনহীন নির্মাণকাজ কিংবা নকশার ব্যত্যয়ে ভবন নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণের কারণে পরিবেশ, নিরাপত্তা ও জনভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানান তারা।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু অভিযান পরিচালনা করাই যথেষ্ট নয়; একই সঙ্গে নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় পরিকল্পিত নগরায়ণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

রাজউক জানিয়েছে, রাজধানীতে নগর উন্নয়নবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং জনস্বার্থবিরোধী কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।