আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ গোলাম রসুল মজুমদার লিটন (৪৮) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি সাফায়েত আলী ওরফে সাফু (৩৫) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে ০৬ মার্চ ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে। নলকুড়ি ফোরকানিয়া মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালে ভিকটিমকে পেছন থেকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় আসামি। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে সাফায়েত আলী, তার ভাই কেরামত আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় মামলা (নং-১১, তারিখ ০৭/০৩/২০২৪, ধারা ৩০২/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন।
থানা পুলিশ তদন্ত শেষে এজাহারনামীয় ০১নং আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে বাদীর নারাজি আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই কুমিল্লা জেলাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পিবিআই কুমিল্লার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউসের নেতৃত্বে তদন্ত চলাকালে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা ও হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়।
পরবর্তীতে ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
জবানবন্দি ও তদন্তে জানা যায়, আসামি বিদেশ থেকে ফিরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা সমস্যায় হতাশ হয়ে পড়ে। স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় এবং পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সে। এসব ক্ষোভ থেকেই প্রতিবেশী ও মাদ্রাসা শিক্ষক লিটনের সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে ক্লাস চলাকালে তাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, এ ঘটনায় অন্য কেউ প্ররোচনা দিয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
