আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মানব পাচার, অপহরণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে লিবিয়ায় অপহৃত এক বাংলাদেশি যুবককে উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রের একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জব্দ করা হয়েছে।
মামলার বাদী উর্মি বেগমের দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম সোহেলকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে দালালচক্র বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করে। পরে তাকে প্রতারণার মাধ্যমে লিবিয়ার ত্রিপোলি শহরে নিয়ে গিয়ে অপহরণকারীদের নিকট বিক্রি করা হয়। সেখানে তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
অভিযোগে আরও জানা যায়, অপহরণকারীরা বিভিন্ন ধাপে পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ৬৩ লাখ টাকা আদায় করে। ভিকটিমকে অনাহারে রাখা, শারীরিক নির্যাতন, ব্লেড দিয়ে আঘাত, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এবং অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়।

পিবিআই জানায়, তদন্তে চক্রটির মূল সদস্যদের শনাক্ত করা হয় এবং টিটু মীর ও রহিমা বেগমসহ একাধিক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ইসমাইল দেওয়ানকেও আটক করা হয়। তাদের মোবাইল ফোন বিশ্লেষণ করে মুক্তিপণ আদায় ও বিদেশে অবস্থানরত মূল হোতা রিয়াজুল মাদবরসহ অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও উঠে আসে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে শতাধিক মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা ও মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাদের ব্যবহৃত একাধিক ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

পিবিআই’র ধারাবাহিক অভিযান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে ভিকটিম সোহেলকে লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিরাপদ হেফাজতে এনে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।
পিবিআই জানিয়েছে, মানব পাচারকারী আন্তর্জাতিক চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী সাধারণ মানুষকে দালালচক্রের প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
