রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তাদের কাছে নতুন ধরনের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে, যা ‘ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত’। ইউক্রেনের নিপ্রো শহরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একদিন পর, তিনি এই মন্তব্য করেন।
গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) রাশিয়া ইউক্রেনের নিপ্রো শহরে নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।
শুক্রবার (২২ নভেম্বর) এক অনির্ধারিত টেলিভিশন ভাষণে পুতিন বলেন, ‘ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্রকে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়। এটি শব্দের চেয়ে ১০ গুণ বেশি গতিতে চলতে সক্ষম।’
তিনি আরও জানান, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা কাজে লাগানো হবে। এই অস্ত্রকে আটকে রাখা সম্ভব নয়। আমাদের কাছে এ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত রয়েছে এবং তা ব্যবহারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
পুতিন একইসঙ্গে ‘ওরেশনিক’ হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোরও নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
সম্প্রতি ইউক্রেন মার্কিন সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালায়, যা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও অবনতি করে। এর জবাবে বৃহস্পতিবার নিপ্রোতে নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া।
নিপ্রোতে হওয়া হামলাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা তিন ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, এই হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছিল আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো।
অন্যদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে রাশিয়ার সাবেক ও বর্তমান পাঁচ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন পুতিন।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ভূখণ্ড নিয়ে কোনো বড় ছাড় না দেওয়া এবং কিয়েভকে ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা ত্যাগ করতে হবে।
তবে ওই কর্মকর্তারা আরও জানান, ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কোনো সমঝোতা হলে ক্রেমলিন ইউক্রেনের সম্মুখসারির যুদ্ধ বন্ধে রাজি হতে পারে। পাশাপাশি পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন অঞ্চলের ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার সুযোগ রাখা হবে।
