আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া এলাকায় অজ্ঞাত এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্যাং রেপসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চারজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গত ২৯ মে ২০২৬ খ্রিঃ গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি টেংগারচর ইউনিয়নের বড় ভাটেরচর এলাকায় ফুলদী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে পিবিআই, মুন্সীগঞ্জ জেলা ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে তার নাম হালিমা আক্তার (১৯) বলে নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ৩০ মে ২০২৬ খ্রিঃ পিবিআই স্বপ্রণোদিতভাবে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তে চারজনকে আসামি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তারা হলেন— আবু কালাম (৪৮), মো. জামাল হোসেন (৪৪), মো. রাসেল মিয়া (৪৪) এবং মো. আলামিন প্রধান (৫০)। পরবর্তীতে একই দিন তাদের গজারিয়া এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিমের কাছে আসামিদের আর্থিক লেনদেনের বিষয় ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে কৌশলে নদীর পাড়ে ডেকে নিয়ে গিয়ে নৌকায় করে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
