উম্মে সালমা,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র মতিঝিলে অবস্থিত হোটেল হীরাঝিলের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং একই ধরনের খাবারের ক্ষেত্রে বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা, অফিসগামী মানুষ এবং নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
তথ্য অনুসন্ধানে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাইরে থেকে পরিচ্ছন্ন ও আকর্ষণীয় মনে হলেও হোটেলটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ, বিশেষ করে রান্নাঘর, খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত না করেই খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশন করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সত্যের কণ্ঠের অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা হোটেল হীরাঝিলে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে, সেখানে মালিক হিসেবে পরিচয়দানকারী সুমনের সঙ্গে কথা হয়। তবে অনুসন্ধানী দলকে হোটেলটির রান্নাঘর পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়নি।এবং অনুসন্ধানী টিমকে বলা হয় প্রয়োজনীয় সংগৃহীত তথ্য যেন গোপন রাখা হয়। একই সঙ্গে খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ, ট্রেড লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলেও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা নথি দেখানো হয়নি বলে অনুসন্ধানী দলের দাবি।
একাধিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগ রয়েছে, খাবারের মান ও পরিমাণের সঙ্গে আদায়কৃত মূল্যের সামঞ্জস্য নেই। আশপাশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় একই ধরনের খাবারের জন্য বেশি মূল্য নেওয়া হলেও দৃশ্যমান মূল্যতালিকা, নির্ধারিত ওজন, বৈধ লাইসেন্স এবং ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কয়েকজন ক্রেতার অভিযোগ, কোনো বিষয়ে আপত্তি জানালে বা অভিযোগের প্রতিকার চাইলে হোটেলটির কিছু কর্মচারীর কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগের সন্তোষজনক নিষ্পত্তিও পাওয়া যায় না বলে দাবি তাদের।
স্থানীয়দের মতে, রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই হোটেলে খাবার গ্রহণ করেন। তাই খাদ্যের মান, স্বাস্থ্যবিধি এবং মূল্য নির্ধারণে কোনো ধরনের অনিয়ম থাকলে তা শুধু ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এ অবস্থায় স্থানীয়রা বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি দ্রুত যৌথ পরিদর্শন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, খাদ্যের মান, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, মূল্যতালিকা, লাইসেন্স এবং প্রযোজ্য আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে হোটেল হীরাঝিল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে ভোক্তারা নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও ন্যায্যমূল্যে খাবার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে পারেন এবং খাদ্য ব্যবসায় প্রচলিত আইন ও স্বাস্থ্যবিধির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।
