স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত ও লোভনীয় স্থানে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।
গ্রেফতারকৃতরা হলো— ০১। এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও ০২। নিলুফা সুলতানা (৫৬)।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২০ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ডিএমপি কমিশনার ডিবিকে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এক ব্যক্তি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিচয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বদলি ও পদোন্নতি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অবৈধ অর্থ লেনদেনের চেষ্টা করছিল। এছাড়াও, মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদায়নের বিষয়ে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হচ্ছিল।
এ ঘটনার পর ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বুধবার (২০ মে) রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে হাতিরঝিল থানাধীন পশ্চিম রামপুরার একটি বাসায় অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের মূল হোতা এম আমিনুর রহমান শান্তকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও সিম জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বিশ্লেষণ করে চক্রের আরও একজন সদস্যের তথ্য পাওয়া যায়। পরে অভিযান পরিচালনা করে চক্রের সঙ্গে জড়িত নিলুফা সুলতানা (৫৬), যিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত, তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়াও চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
