আলভী মাহমুদ আলিফ, প্রতিনিধি :
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মতিঝিল বিভাগ। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান ও একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
মতিঝিল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৫ মে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ওই ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি এবং তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে মতিঝিলের হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পিসহ তার তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে আরও এক সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি (৪৬), মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭), মো. মানিক কাজী (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজন (৩৫)।
পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি রিভলভার, দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, একটি ইলেকট্রিক শক গান এবং একটি বিদেশি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি একজন অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অপহরণ, হত্যা চেষ্টা, নারী ও শিশু নির্যাতন ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের অন্যান্য সহযোগীকে গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
