উম্মে সালমা,স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অনিয়ম, তথ্য গোপন, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাবের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে ঘিরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসঙ্গতি চললেও কার্যকর কোনো প্রতিকার মিলছে না। এর ফলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে।
সম্প্রতি হাসপাতালের রোগী ভর্তি রেজিস্টারে উল্লেখিত রোগীর সংখ্যা এবং সরেজমিনে হাসপাতালে উপস্থিত রোগীর সংখ্যার মধ্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করা গেছে। সরকারি নথিপত্র ও বাস্তব চিত্রের এই অমিল হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন প্রশাসনিক তথ্য জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে স্পষ্ট ও সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায় না। ফলে সরকারি তথ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশেষ সূত্রের ভাষ্যমতে, হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য-উপাত্ত তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে সত্যের কণ্ঠ-এর অনুসন্ধানী টিম অভিযোগগুলোর বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি কলটি কেটে দেন এবং ব্যবহৃত নম্বরটি ব্লক করে দেন বলে দাবি করেছে অনুসন্ধানী টিম। অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি বক্তব্য না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সত্যের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ইলিয়াস খানের বক্তব্য গ্রহণ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিভিল সার্জন সত্যের কণ্ঠকে আশ্বস্ত করে বলেন, অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল-সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম অনুসন্ধান বা সংবাদ প্রকাশের উদ্যোগ নিলে কিছু গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন ধরনের চাপ, ভয়ভীতি, প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা এবং আইনি পদক্ষেপের হুমকির মুখে পড়েছেন।
বিশেষ সূত্রের আরও দাবি, বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সমালোচনা প্রশমিত করতে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন ধারাবাহিক অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, বরং জনস্বার্থ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি চরম অবহেলার শামিল। তাই বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।
