আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের ভূজপুর এলাকায় এক নারীকে গণধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নিখোঁজের প্রায় ৯ মাস পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই বিকেল আনুমানিক ২টার দিকে ভিকটিম রিনা আক্তারকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি আব্দুল মান্নান ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
পরবর্তীতে ৪ আগস্ট স্থানীয় মসজিদের ইমামের মাধ্যমে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে ভিকটিমের মা ঘটনাস্থলে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন ৫ আগস্ট মান্নানের টিলার বাগান এলাকা থেকে ভিকটিমের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে আব্দুল মান্নানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ভূজপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মোঃ সালাহ উদ্দিন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২০ জুন ২০২৬ দিবাগত রাতে এজাহারনামীয় ৩৫ নম্বর আসামি মোঃ আলাউদ্দিনকে ফেনী সদর থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে এজাহারনামীয় ৩৪ নম্বর আসামি মোঃ রামজান আলীকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে তাদেরকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে যাওয়ার পথে জোরপূর্বক একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে দিয়ে জোরপূর্বক নাচ-গান করানো হয় এবং পরবর্তীতে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। পরে ঘটনাটি প্রকাশ করে দেওয়ার আশঙ্কায় আসামিরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করে।
পিবিআই জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।
