হারানো স্মৃতি
মহসিন আলম মুহিন
সুন্দর সোনালি সকাল, কুড়ানো শিউলি ফুলের ঘ্রাণ,
হৈ হুল্লোড়, ছুটোছুটি, মধুর জুটি উৎফুল্ল ছিল সব প্রাণ।
শান বাধানো ঘাটের মুগ্ধ বিকাল চলতো কত মিল তাল,
ছিল লেখাপড়া, খেলাধুলা, সুন্দর দিন, টক-মিষ্টি-ঝাল।।
বন্ধুরা মিলে এ গাছ ও গাছ নানান গাছের তলে,
সকলে মিলে মান্দায় যেতাম, মাছ ধরার ঐ বিলে।
বড় দুপুরে চুপিসারে ঢিল ছু্ঁড়ে ছুঁড়ে ফল পাড়া,
সারাদিন ভিজে আনন্দে বক-পাখী, মাছও কিছু ধরা।।
শবে-বরাতের রাতে দল বেধে মসজিদে মসজিদে ঘোরা,
মোনাজাত করে আবার হাত ধরে কবরস্থানেতে ফেরা।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিলাদ পড়া-সাথে তবারক খাওয়া,
কত সোনামুখ মাটির ঘরে-তাদের মাগফেরাত চাওয়া।।
পূজা-পার্বণে, পাড়া-মহল্লা, আনন্দে উঠত মেতে,
মানুষে মানুষে ছিল না বিভেদ-থাকতো একই সাথে।
দলে দলে ঘুরা ফেরা আনন্দে সবাই মাতোয়ারা,
ভালোই লাগতো সেই রঙিন দিন গুলোর ধারা।।
ব্যবসা-বাণিজ্যে, রহমত-বরকত, সবই মজার ছিল,
আজিকে যেন হারিয়ে গেছে, সবখানে এলোমেলো।
সেকালের অফিস-আদালত, চাকরি, সম্মানে ছিল ভরা,
আজ সবখানে অসৎ লোক ধরে-ঘৃণ্য শকুনির উড়া।।
গ্রাম ঘরে টিকিট কেটে কত যে আমোদের রেখা,
হারিয়ে গেছে কালের গহ্বরে-যায় না তা আর দেখা।
নাটক-থিয়েটার, জারি-সারি, যাত্রা-পালার গান,
আধুনিকতার দোহাই দিয়ে সে গুলোর অবসান।।
রোগ ছিল, বৈদ্য ছিল, মানুষজন ছিল খুব ভালো,
আজকের দিনে রোগ-রুগীদের ডাক্তার জমকালো।
অল্প ঔষধ, ঝাড়ফুঁকেই আরাম হতো-সাথে সাথে,
এখন, টেষ্ট আর টেষ্ট নেই তার শেষ-নুন ছাড়া আলুভাতে।।
ডিমের হালি সস্তা ছিল, ফলমুল চাউলের দামও কম,
কোন যুগে এলাম পণ্যের দাম বেশি-আটকে আসে দম।
তেল, মাছ-মাংস, ঘি, দুধ ডাল-চাল কেনাও যেত বেশ,
হারিয়ে গেছে মধুমাখা দিন-হেথায় বিষাদের পরিবেশ।
হারানো স্মৃতিগুলো মনে হলে কষ্ট বাড়ে, বাড়েই শুধু ক্লেশ।।
