মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির:
রাজধানী ঢাকাকে পরিকল্পিত, নিরাপদ ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, “রাজউক কখনোই অবৈধ কিংবা নিয়মবহির্ভূত কোনো ভবনের অনুমোদন প্রদান করে না। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে আইন লঙ্ঘন করে অননুমোদিত ভবন নির্মাণ করছে, যা শুধু নগর পরিকল্পনাকে ব্যাহত করছে না, বরং জননিরাপত্তার জন্যও গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।”
মাত্র ৬ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশে ১০ তলা বা তারও বেশি উচ্চতার ভবন নির্মাণের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা প্রশ্ন করলে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, “এ ধরনের সরু রাস্তায় রাজউক কখনোই ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেয় না। যদি কোথাও এমন ভবন নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি অনুমোদিত নকশা ও বিধিমালা অনুসারে হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নির্মাণাধীন অবৈধ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ তুলনামূলক সহজ হলেও যেখানে ইতোমধ্যে মানুষ বসবাস শুরু করেছে, সেখানে মানবিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ জটিল হয়ে পড়ে। তবুও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে রাজউক অঙ্গীকারবদ্ধ।”
রাজউক চেয়ারম্যান আরও জানান, পুরাতন ভবনসমূহে বিদ্যমান বিভিন্ন ব্যত্যয় ও অনিয়মের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি বিশেষ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে রাজউক। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুত হওয়া এ নীতিমালার খসড়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যানের মতে, অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নানা চাপ, প্রভাব ও প্রশাসনিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
তিনি বলেন, “যারা আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে কিংবা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করে, তারা মূলত সুশাসন ও আইনের শাসনের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেয়।”
রাজউক চেয়ারম্যান মোঃ রিয়াজুল ইসলাম সত্যের কণ্ঠকে জানান, ১৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখ হতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত ভবনের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “রাজধানীকে আধুনিক, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই রাজউকের প্রধান লক্ষ্য।”
শেষে সচেতন মহলের উদ্দেশে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত ভবন নির্মাণ, অনুমোদনবহির্ভূত সম্প্রসারণ কিংবা নকশা লঙ্ঘনের বিষয়ে রাজউকের কাছে নিয়মিত অভিযোগ জানানো হলে কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই করবে। তিনি অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
