সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে কোনো তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
রোববার (২২ ডিসেম্বর) সকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের কাছে কোনো তথ্য নেই। নোটিশ জারি হলে পুলিশের এনসিবি শাখা তা জানতে পারবে এবং বিষয়টি আইজি কার্যালয় নিশ্চিত করবে।
পুলিশ সদরদপ্তরেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির কোনো তথ্য তাদের কাছেও নেই।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন এবং এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। এদিকে, জুলাই মাসের গণহত্যা ও বিগত ১৫ বছরের শাসনামলে গুম, খুন ও দুর্নীতির শত শত অভিযোগে শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রতিশ্রুতি দেয়। সেই ধারাবাহিকতায়, ১৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন থেকে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে, ১০ নভেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল গণমাধ্যমে জানান, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতক অভিযুক্তদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হবে।
১২ নভেম্বর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা গণহত্যা, গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত। তিনি পালিয়ে গিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাকে গ্রেপ্তার করতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা, যারা বর্তমানে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে আসাদুজ্জামান খান কামাল, হাসান মাহমুদসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
১৭ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। অভিযুক্তদের তালিকায় শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, পুলিশ কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন।
