আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস “শিপ্রা রানী দাস” ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান পলাতক আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজল (৪২)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় চার বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত থাকা এই মামলার তদন্ত পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে পিবিআইকে হস্তান্তর করা হয়। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্তে অগ্রগতি আসে এবং অবশেষে আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী থানার রেল স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর ভিকটিম শিপ্রা রানী দাস কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর নবীনগর থানাধীন নবীপুর এলাকার একটি ফসলি জমি থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে সনাক্তকরণের পর নিহতের স্বামী সবিনয় দাস নবীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন।
তদন্তে জানা যায়, ভিকটিম ও আসামি তাজুল ইসলাম প্রকাশ কাজলের মধ্যে পূর্বপরিচিতি ও পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে অর্থসংক্রান্ত বিরোধ ও সম্পর্ক প্রকাশের হুমকির জেরে আসামি পরিকল্পিতভাবে ভিকটিমকে হত্যা করে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
ঘটনার দিন ভিকটিমকে নৌকাযোগে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং মরদেহ ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
