উম্মে সালমা,স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর শাহজাহানপুর থানাধীন শান্তিবাগ রোডের ২৫/৩ নম্বর ভবনে গত ৫ জুন ২০২৬ ইং তারিখে হাফেজ মোঃ ফাহিমুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য ঘনীভূত হওয়ার পাশাপাশি ভবনের ভাড়াটিয়া দেবশঙ্কর মাতাকে ঘিরে সংবাদ প্রকাশের পর একের পর এক রহস্যময় তথ্য ও অভিযোগ বেরিয়ে আসছে।
ফাহিমের পরিবারের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দেবশঙ্কর মাতার আর্থিক কর্মকাণ্ড, পেশা, আয়ের উৎস এবং তার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, দেবশঙ্কর মাতা ‘বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড -এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক লোক নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এবং এ খাতে ব্যাপক আর্থিক লেনদেন করেছেন। উল্লেখ্য যে দেবশঙ্কর মাতা “বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড নামে ব্যাপক আকারে অবৈধ আউটসোর্সিং চালাচ্ছেন, জানা গেছে দেবশঙ্কর প্রায় আড়াইশো লোক নিয়োগ দিয়েছেন “বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড এর সহযোগিতায়। উল্লেখ্য যে দেবশঙ্কর মাতা “বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড এ চুক্তি হয়েছে,যদিও এই চুক্তি আইন বহির্ভূত ।
কেননা বুশরা কোম্পানির নিজের কোনো সরকারী নিবন্ধন বা লাইসেন্স নেই। যদিও এই ধরনের সিকিউরিটি সার্ভিস পরিচালনা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর জননিরাপত্তা বিভাগ বা রেজিস্টার অফ জয়েনস্টক কোম্পানিস এন্ড ফার্মস এর অনুৃমতি ক্রমে সিকিউরিটি কোম্পানি চালাতে পারবে। সে ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীমা নাসরিন দাবি করেন, “এ ধরনের সিকিউরিটি সার্ভিস পরিচালনার জন্য কোনো ধরনের লাইসেন্স বা সরকারি নিবন্ধনের প্রয়োজন হয় না। আমরা কলকারখানার সাথে কথা বলে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি।” তবে তার এই বক্তব্যে নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কারণ, বুশরা কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীমা নাসরিন যে “কলকারখানা” থেকে অনুমতি নেওয়ার কথা বলেছেন, সেটি কোন কর্তৃপক্ষ, কোন আইনের আওতায় এবং কী ধরনের অনুমোদন—সেখানেও একটি নিবন্ধিত নম্বর থাকবে কিন্তু এ ধরণের কোনো প্রকার নিবন্ধন বা নম্বর দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসিং এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শামীমা নাসরিন। ফলে শামীমা নাসরিনের বক্তব্যের আইনগত ভিত্তি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক সংশয় দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি সিকিউরিটি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিবন্ধন ও আইনগত বৈধতা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু শামীমা নাসরিনের বক্তব্যে সেই স্বচ্ছতার অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে “কলকারখানার অনুমতি” প্রসঙ্গটি বাস্তবে কী বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, তা এখনো রহস্যের আবরণেই রয়ে গেছে। এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি জনমনে কৌতূহল ও সন্দেহের জন্ম দিতেই থাকবে। বুশরা কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যম দেবশঙ্কর বিভিন্ন কোম্পানি তে লোক নিয়োগ দিবেন এমনই লিখিত চুক্তি করেছিলেন দেবশঙ্কর মাতা বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড কোম্পানির সাথে। বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের সহায়তায় দেবশঙ্কর নিয়োগ বানিজ্যের মাধ্যমে আট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। নিয়োগপ্রাপ্তদের কাছ থেকে নির্ধারিত বেতন কাঠামোর উপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করেছেন এবং তার সত্যতা পাওয়া গেছে।
বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস প্রাঃ লিমিটেড এর মাধ্যমে দেবশঙ্কর মাতা যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে লোক নিয়োগ দিয়েছিলেন, সেগুলোর নিয়োগ বৈধতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিসের কোনো সরকারী নিবন্ধন নেই। সাধারণভাবে, সিকিউরিটি সার্ভিস পরিচালনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ বা জয়েন্ট স্টক কোম্পানি নিবন্ধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এসব নিয়ম মেনে কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ছাড়াই, কিভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে লোক নিয়োগ দেওয়া হলো, তা স্পষ্ট নয়। এই নথিপত্রবিহীন নিয়োগ প্রক্রিয়াটি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা তদন্ত করে নিশ্চিত করা জরুরি এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া আবশ্যক। উল্লেখ্য যে দেবশঙ্কর ঢাকা শহরে তার কোনো ব্যাংক একাউন্ট রাখেন নি,দেব শঙ্কর এর নিজ এলাকা পিরোজপুরে জনতা ব্যাংকের অধীনস্থ ব্যাংক একাউন্ট আছে।
২৫,২৬ বা ২৭ বছর বয়সী সুন্দর এবং সুদর্শন ছেলেদের টার্গেট করতেন এই দেব শঙ্কর মাতা। তথ্য অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দেবশঙ্কর মাতা একজন সমকামী ব্যক্তি । দেবশঙ্কর কে সব সময় ছেলেদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সত্যতা পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক মুঠো ফোনের মাধ্যমে সত্যের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম কে জানান,দেব শঙ্কর তাকেও বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস এর মাধ্যমে চাকরী দিয়েছিলো, ছেলেটিকে দেবশঙ্কর তার সাথে সমকামীতা করতে বাধ্য করতেন,, যদিও ছেলেটি দীর্ঘদিন দেবশঙ্করের সমকামীতার শিকার ছিলেন। দেবশঙ্করের ফ্ল্যাটে সব সময় ছেলেদের আনাগোনা বেশি ছিল।অন্যদিকে দেবশঙ্কর ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আট থেকে দশটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেয়া আছে, একজন ব্যক্তির একা ঢাকা শহরে এতগুলো বাড়ি কি কাজে ব্যবহৃত হয়।?এ বিষয়েও থেকে যায় ধোঁয়াশা।
ফাহিমের পরিবারের দাবি, দেবশঙ্কর মাতার সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই প্রভাবের কারণেই দেবশঙ্কর দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পেরেছেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, শাহজাহানপুর থানার কয়েকজন এসআইয়ের মোবাইল ফোনে দেবশঙ্করের নম্বর ‘দেব দাদা’ নামে সংরক্ষিত ছিল, যা তার প্রভাব ও যোগাযোগের পরিধি নিয়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে দেবশঙ্কর মাতা পিরোজপুর জেলার আলামকাঠি তার নিজ পিত্রালয়ে অবস্থান করছেন । তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় দেবশঙ্করের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। মেয়ের বয়স ১১ বছর এবং ছেলের বয়স ২ বছর। তার স্ত্রীর নাম মালা। দেবশঙ্করের বাবার নাম মাধব চন্দ্র মাতা এবং মাতার নাম দীপ্তি রানী মাতা। এরা সকলেই পিরোজপুরে অবস্থান করছেন। সত্যের কণ্ঠের অনুসন্ধানী টিম বার বার যোগাযোগ করতে চাইলেও দেবশঙ্করকে মুঠোফোনে পাওয়া যায় না। ফাহিমের পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা গেলে আইনের শাসন ও জনমনে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রশাসনকে দেবশঙ্কর এবং বুশরা সিকিউরিটি সার্ভিস (প্রাঃ) লিমিটেড কে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমে সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সুনজর দেয়ার আহ্বান জানালেন ভুক্তভোগী ফাহিমের পরিবার। ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে অনুসন্ধান করছে সত্যের কণ্ঠ। পরবর্তী পর্বে উঠে আসবে নতুন তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, তদন্তের অগ্রগতি এবং ঘটনার নেপথ্যের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঙ্গেই থাকুন সত্যের কণ্ঠের অনুসন্ধানী ধারাবাহিক প্রতিবেদনে।
