রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে ঘিরে সম্প্রতি একাধিক অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা দুরুল বাবুকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।
সূত্রের দাবি অনুযায়ী, তিনি বোর্ডে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন—উপ-সচিব (ভান্ডার), উপ-সচিব (প্রশাসন) এবং শিক্ষা বোর্ড অফিসার্স কল্যাণ সমিতির সভাপতির পদসহ একাধিক দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাচ্ছেন। এতে প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং স্বার্থ সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বদলি, নিয়োগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে, যেখানে তার সম্পৃক্ততার কথাও কিছু মহল থেকে উঠে এসেছে। একইসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীতে নামে-বেনামে সম্পদ গড়ার অভিযোগও করা হচ্ছে, যদিও এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
বোর্ডের একাধিক কর্মচারীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া নথি ও খাতা-পত্র সংরক্ষণ ও অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে, যা অনিয়মের আরেকটি দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুবিধা দিতে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
এছাড়া নিয়োগ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অস্থিরতার পেছনে অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের ভূমিকা রয়েছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কোনো সাড়া দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক পর্যায়ের এক প্রবীণ নেতা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে এবং সরকার চাইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে—এমন মতামতও তিনি ব্যক্ত করেন।
তবে এখন পর্যন্ত উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। শিক্ষা বোর্ড বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
(চলবে)
