গাজায় মৃত্যুর মিছিল থামছে না। লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করলেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন আরও তীব্র হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজার উত্তরাঞ্চলীয় শহর বেইত লাহিয়া ও জাবালিয়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরায়েল। এতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০০ জন।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের মুখপাত্র মাহমুদ বাসালের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ৭৫ জন বেইত লাহিয়ার বাসিন্দা এবং বাকি ২৫ জন জাবালিয়া ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের ওপর প্রতিশোধের নামে গাজায় ভয়াবহ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও আগ্রাসন থামেনি। মাঝে কিছু সময় হামলার মাত্রা কমলেও গত ৫ অক্টোবর থেকে উত্তর গাজায় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ইসরায়েলের স্থল ও বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২,৭০০ ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও ১০,০০০ জন।
উত্তর গাজায় গাজার বেশিরভাগ জনগণ বাস করে। ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযান চলাকালীন ইসরায়েলি বাহিনী অঞ্চলটিতে খাবার, ওষুধ এবং জ্বালানি প্রবেশে বাধা দিয়েছে। এতে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদ বাসাল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নিহতদের মধ্যে অনেকেই খাবার ও পানির সন্ধানে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, গত দুই মাস ধরে ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দেওয়ায় সেখানে দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গণহত্যা, খাদ্য সংকট ও লাগাতার হামলায় উত্তর গাজার বাসিন্দারা ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামাসের সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতেই উত্তর গাজায় সর্বশেষ বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ আগস্ট থেকে গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৪,৪০০ ফিলিস্তিনি নিহত এবং আরও এক লক্ষাধিক আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ করা এবং বন্দিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত গাজায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
