ঢাকাশুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, বিকাল ৩:২৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রেমের ফাঁদে প্রতারণা: ‘বিদেশি ডাক্তার’ পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সত্যের কন্ঠ
এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
পঠিত: 131 বার
Link Copied!

মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির প্রতিনিধি:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে সংঘবদ্ধ প্রতারণা চক্রের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশি পরিচয়, কাস্টমস জটিলতা এবং জরুরি পরিস্থিতির ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।

৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এমনই এক প্রতারণার শিকার হন এক অসহায় নারী। প্রতারক চক্রটি কৌশলে তার কাছ থেকে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি নং ৭২৩ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতারক চক্রের এক সদস্য নিজেকে পাকিস্তানি ডাক্তার পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ব্যবহৃত নম্বরটি ছিল +92 306 8189871 এবং তিনি নিজেকে “Sunny Khan” নামে পরিচয় দেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তিনি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে তার আস্থা অর্জন করেন।

পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন যে, ভুক্তভোগীর জন্য উপহার নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন। এরপর তিনি জানান, সিলেট বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অতিরিক্ত মালামাল বহনের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাকে জরিমানা করতে চায় এবং এ নিয়ে তার সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা চলছে। এ সময় তিনি কিছু ভুয়া ভিডিও ও বার্তা পাঠিয়ে পরিস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলেন।

একপর্যায়ে প্রতারক দাবি করেন, তিনি বিদেশি হওয়ায় তার কাছে বাংলাদেশি মুদ্রা নেই। এরপর একটি তথাকথিত ‘এজেন্ট’ নম্বরের মাধ্যমে সকাল ৯টার দিকে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রথমে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়।

পরবর্তীতে চক্রটি আরও পরিকল্পিত কৌশল অবলম্বন করে। “নুসরাত জাহান মেঘলা” নামে এক নারী নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ছিল +880 1812-127328। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ঘোষণার অতিরিক্ত পরিমাণ স্বর্ণ বহন করায় অতিরিক্ত ভ্যাট পরিশোধ করতে হবে। এই অজুহাতে ভুক্তভোগীর কাছে আরও ৩৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

চাপের মুখে পড়ে ভুক্তভোগী 01304614813 নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ৩৫ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। সবমিলিয়ে প্রতারক চক্রটি তার কাছ থেকে মোট ৫২ হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়।

ঘটনার পর বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে ভুক্তভোগী বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। পরে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় জিডি নং ৭২৩ দায়ের করেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি। সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বর, অনলাইন যোগাযোগ মাধ্যম এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব।

একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বিদেশ থেকে উপহার পাঠানোর নামে অর্থ দাবি, কিংবা কাস্টমস সংক্রান্ত অজুহাতে টাকা চাওয়া—এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

ভুক্তভোগীসহ সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়। অন্যথায় এ ধরনের প্রতারণা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।