আলভী মাহমুদ আলিফ, প্রতিনিধি :
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অটোরিকশা দ্রুতগতিতে চালানোকে কেন্দ্র করে কিশোর চালক সাকিবুল (১৬) হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তভার স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মানিকগঞ্জ। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর মিতরা এলাকার বাসিন্দা সাকিবুল তার অসুস্থ বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ৩০ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে তিনি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ১ জুলাই ভোরে সিংগাইর থানাধীন জামশা ইউনিয়নের গোলাই নতুনপাড়া এলাকায় একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা রহমত আলী বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৮ জুলাই পিবিআই মানিকগঞ্জ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোপন অনুসন্ধান এবং স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে যাত্রীবেশে থাকা সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে একই দিন বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকার মাদ্রাসা গেট থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং ৯ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
পিবিআই জানায়, তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ৩০ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শারীরিকভাবে অসুস্থ আসাদুজ্জামান আসাদ সাকিবুলের অটোরিকশায় গোলাইডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃষ্টির মধ্যে ভাঙাচোরা সড়কে দ্রুতগতিতে অটোরিকশা চালানোর কারণে ঝাঁকুনিতে তিনি সিট থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পান। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চালককে থাপ্পড় মারলে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে পড়ে যান। সেখানে আসাদ সাকিবুলকে মারধর করে, মুখ চেপে ধরে এবং ঘাড়ে কনুই দিয়ে চাপ প্রয়োগ করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ পাটক্ষেতে ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
