আলভী মাহমুদ আলিফ, প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ নগরীতে মায়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগকে কেন্দ্র করে মো. রুবেল (৩৮) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুলাই সকালে ময়মনসিংহ নগরীর ৩৬ বাড়ি কলোনির আর.কে. মিশন রোডের একটি ভাড়া বাসায় রুবেলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পিবিআই, ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ পরিদর্শক মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় একই দিন দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে হত্যাকাণ্ডে জড়িত রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে বাড়ির মালিকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিলভুক্ত হওয়ায় ৬ জুলাই পিবিআই আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার গ্রহণ করে।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
প্রাথমিক তদন্তে পিবিআই জানতে পারে, প্রায় এক মাস আগে নিহত রুবেল ওই বাসায় একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরে বাড়ির মালিকের পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলা হয়। ঘটনার দিন ভোরে রুবেলের সঙ্গে বাড়ির মালিক পারুলের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় রুবেল পারুলকে শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি জানার পর পারুলের চার ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে রুবেলের ওপর হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
