ইব্রাহিম মোল্লা, শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
শরীয়তপুরের পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নৌ-পুলিশের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজি, হয়রানি ও গণডাকাতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় জেলেরা। অভিযোগ রয়েছে, চাঁদপুরের মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও শরীয়তপুরের নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা নিয়মিতভাবে জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শরীয়তপুর জেলা মৎস্যজীবী দল ও সাধারণ জেলেদের উদ্যোগে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার দুলারচর এলাকার প্রায় এক হাজার, নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকার পাঁচ শতাধিক এবং সখিপুর এলাকার আরও প্রায় ছয় শতাধিক জেলে প্রতিদিন পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জেলেদের অভিযোগ, নদীতে নামলেই বিভিন্ন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা তাদের কাছে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে জেলেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা দেওয়া হয় এবং মাছ ধরার নৌকা আটক করা হয়।
জেলেরা আরও অভিযোগ করেন, রাতে মুখোশধারীরা জেলেদের নৌকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতি চালায়। এসব ঘটনায় নৌ-পুলিশের কিছু সদস্য জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। ফলে আতঙ্কে অনেক জেলে বর্তমানে নদীতে মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শনিবার সন্ধ্যায় ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুলারচর লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক জেলে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তারা অবিলম্বে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।
জেলে সোহেল মোল্লা বলেন, “পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে গেলেই নৌ-পুলিশের চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। রাতে ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। এতে আমাদের জীবিকা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।”
জেলে মজিবর মিয়া ও স্বপন ফকির বলেন, “মৎস্য বিভাগের নীতিমালা মেনে আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাই। কিন্তু সেখানে গিয়েই নিয়মিত চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। চাঁদা না দিলে বৈধ জালকেও অবৈধ বলা হচ্ছে।”
সখিপুর থানা যুবদলের অর্থ সম্পাদক মাসুদ করিম ও জেলে হযরত আলী মিয়া বলেন, “বিগত সরকারের সময়েও জেলেদের নৌ-পুলিশকে চাঁদা দিতে হতো। এখনো সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। টাকা দিলে অবৈধ জালও বৈধ হয়ে যায়, আর টাকা না দিলে বৈধ জালও অবৈধ হয়ে পড়ে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নরসিংহপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ইয়াসিনুল হক। তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমরা এ ধরনের কাজ করি না।”
চাঁদপুরের মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে চাঁদপুর নৌ-পুলিশের পুলিশ সুপার সৈয়দ মুসফিকুর রহমান চাঁদাবাজি ও ডাকাতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরতে দিই না। জেলেরা যদি সরকারের অনুমোদন নিয়ে আসে, তাহলে তাদের বাধা দেওয়া হবে না।”
