ঢাকাশুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, দুপুর ২:২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযোগ দেওয়া সত্ত্বেও কেন নীরব আছেন ডিএনসির অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম!

সত্যের কন্ঠ
এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
পঠিত: 152 বার
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিনিধি:
‎ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত ‘লং লাইফ মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্র’-এর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ , সুস্থ মানুষকে জোরপূর্বক ভর্তি করা , নিয়মিত মাদক সরবরাহের মাধ্যমে ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত করে তোলা হয় এবং চিকিৎসার নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
‎কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমান এবং চিকিৎসক ডা. আজাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, স্ত্রীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন ও ফ্ল্যাট আত্মসাতের উদ্দেশ্যে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই ২০২৩ সালের ১লা অক্টোবর সন্ধ্যায় মোঃ সালমানকে তার বড় বোন জেবুন্নেছা জুই ও তার স্বামী ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়কার নেতা, মোঃ নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া সুকৌশলে বহিরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে লং লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মালিকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জোরপূর্বক লং লাইফ মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এনে জোরপূর্বক ভর্তি করেন। ভর্তি করার সময় রোগীর পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেওয়া হয়নি। জরুরি যোগাযোগ নম্বরও সংরক্ষণ করা হয়নি। কিছুদিন যেতে না যেতেই আরেকটি নাটক শুরু করেন লং লাইফ মাদকাসক্তির মালিক দাবি করেন, ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মোঃ সালমান নিখোঁজ হয়েছেন। অথচ তার দুলাভাই নিজামুদ্দিন ভূঁইয়া ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ইং তারিখে শ্যামপুর থানায় নিখোঁজ জিডি করেন (জিডি নং-৬৬৩) যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো রোগী রিহ্যাব সেন্টার থেকে নিখোঁজ হলে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় জিডি করা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে অবহিত করা বাধ্যতামূলক।

‎অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সালমানকে পুনরায় জোরপূর্বক ধরে এনে মাদক সেবন করানো হয় এবং তিন দিন পর ডোপ টেস্ট করা হয়, যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। সর্বশেষ ২৮ নভেম্বর ২০২৪ ইং তারিখে জোরপূর্বক মোঃ সালমানকে দিয়ে তার স্ত্রীকে রিহাব সেন্টারে আটকে রেখে তালাক দেওয়ানো হয় এবং একই তারিখে তাকে রিহাব সেন্টার থেকে রিলিজ দেওয়া হয়। এই বিষয়ে জাতীয় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। মোঃ সালমানের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে
‎১৫ তম বিসিএস ক্যাডার ও তেজগাঁও কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চীফ কনসালটেন্ট ডা. কাজী লুৎফুর কবীর গণমাধ্যমকে জানান, শুধু ডোপ টেস্ট নয়—লিভার, কিডনি, হার্ট, ইউরিন, সিবিসি, ভাইরাস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। এসব পরীক্ষা ছাড়া রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র এমবিবিএস ডিগ্রি থাকলেই রিহ্যাব চিকিৎসা দেওয়া যায় না এজন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ আবশ্যক। অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের চিকিৎসা প্রদান আইনত দণ্ডনীয়। তিনি উল্লেখ করেন, গণমাধ্যম কর্মীকে বলেন এই বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তিনবার জোরপূর্বক আটকে রেখে চিকিৎসার
‎অভিযোগ রয়েছে, ডা. আজাহারুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন কিনা, জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন আমার জানা ছিল না । মোঃ সালমানের চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে ডা. কাজী লুৎফুর কবীর জানান, তাকে শুধুমাত্র ভিটামিন খাওয়ানো হয়েছে—কোনো কার্যকর চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এতে পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠেছে।

‎গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মী ১৬ জুন ২০২৫ ইং তারিখে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণসহ অতিরিক্ত পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলামের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মুঠোফোনে এ কে এম শওকত ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, তদন্তের জন্য উপ-পরিচালক উর্মি দে-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উর্মি দে এর কাছে অভিযোগটির বিষয়ে কয়েকবার যাওয়ার পর উর্মি দে বিষয়টি এড়িয়ে যান। পরবর্তীতে জানা যায়, পুনরায় সহকারী পরিচালকের কাছে তদন্তের জন্য পাঠান যা নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ৮ মাস পর দীপক কুমার সুর সহকারী পরিচালকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ হেড অফিসে গিয়েছে এবং তাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালনা হচ্ছে। উর্মি দে ডাক্তার পরিদর্শনের জন্য আবেদন করেছেন, তবে অভিযোগের সঙ্গে ডাক্তার পরিদর্শনের সম্পর্ক স্পষ্ট নয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টরা অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামা চাপার চেষ্টা করছেন এবং গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীদের বিভ্রান্ত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন।

‎ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অংশকে প্রভাবিত করে এ ধরনের অনিয়ম চালাচ্ছে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ‎এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ , জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে যারা এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দ্রুত সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায় বিচার ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন গণমাধ্যমও মানবাধিকার কর্মীরা। বিস্তারিত আসছে পরবর্তী পর্বে।।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।