নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে “সত্যের কণ্ঠ যুব কল্যাণ সংগঠন”-এর উদ্যোগে রাজধানীর ধোলাইপাড় এলাকায় অবস্থিত মারকাজুল ওলামা মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আহার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শিশুদের মাঝে আন্তরিক পরিবেশে আহার পরিবেশন করা হয়। আয়োজকরা জানান, সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, মানবিকতা ও সহমর্মিতার চর্চা বৃদ্ধি করা এবং দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে অবদান রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ্ত বাংলাদেশের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, সত্যের কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক মোঃ মাসুম পারভেজ, যাত্রাবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ কবীর এবং দৈনিক আলোর জগতের বি. এম. শরীফ হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেক বিল্লাহ আবির, অর্থ সম্পাদক মোঃ ইকরাম হোসেন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আল রাফি, নির্বাহী সদস্য যোবায়ের আহমেদ হাসানসহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শেষে মাদ্রাসার মুহতামিম মোঃ আশরাফ আলী বিন আব্দুল কাদির সংগঠনের জন্য বিশেষ দোয়া করেন এবং তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন। তিনি বলেন—
“বর্তমান সময়ে যখন ব্যস্ততার কারণে অনেকেই মানবিক দায়িত্ব থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন ‘সত্যের কণ্ঠ যুব কল্যাণ সংগঠন’-এর মতো একটি সংগঠনের এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এটি শুধু একটি আহার বিতরণ কর্মসূচি নয়, বরং শিশুদের হৃদয়ে ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও মানবিকতার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার একটি মহৎ প্রয়াস।
আমি বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা একটি আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত। সমাজের প্রতিটি মানুষ যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে একটি মানবিক ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব।
আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, এই সংগঠনটি ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করুক এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সক্ষম হোক।”
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং আরও বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের লক্ষ্য—এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে ধারাবাহিকভাবে দাঁড়িয়ে একটি মানবিক সমাজ গঠনে অবদান রাখা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় নিয়মিত আহার বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা। পাশাপাশি তরুণদের সম্পৃক্ত করতে স্বেচ্ছাসেবক টিম সম্প্রসারণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে।
আয়োজকরা আরও জানান, একটি সুসংগঠিত মানবিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অসহায় মানুষের পাশে নিয়মিতভাবে দাঁড়ানোই তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
