আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
যশোরের শার্শা উপজেলায় চলমান জ্বালানি তেলের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জেলার প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনের দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই সংকটের প্রভাব পড়েছে গণপরিবহনেও। অলিখিতভাবে বেড়ে গেছে ভাড়া, ভ্যান-রিকশা ভাড়াও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এতে জনমনে অসন্তোষ ও হতাশা বাড়ছে। সচেতন মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের সংকট আর দেখা যায়নি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ভোর ৭টা থেকে মোটরসাইকেল চালকেরা পাম্পে লাইনে দাঁড়াতে শুরু করেন। কিছু পাম্পে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল হওয়ায় দ্রুতই লাইনের চাপ বাড়ে। অনেকে লাইনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন।
দুপুরের পর শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টি দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ছাতা বা সামান্য আশ্রয় নিয়ে কেউ কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেও অধিকাংশ মানুষকে বৃষ্টিতে ভিজেই অপেক্ষা করতে দেখা যায়। লাইনে অবস্থান হারানোর ভয়ে অনেকেই সরে যাননি। এতে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক জহির উদ্দিন জানান, সকাল থেকে অপেক্ষা করেও এখনো তেল পাননি। অন্যদিকে আবু সাঈদ বলেন, লাইন ছেড়ে দিলে আবার পেছনে যেতে হবে—এই আশঙ্কায় বৃষ্টির মধ্যেই অপেক্ষা করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিয়ম ভেঙে বারবার লাইনে ঢুকে তেল সংগ্রহ করে মজুদ করছেন। বড় পাত্রে তেল সংরক্ষণের প্রবণতাও বেড়েছে, যা কৃত্রিম সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফলে প্রকৃত ভোক্তারা আরও বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চাকরিজীবী ও নিয়মিত যাতায়াতকারী মোটরসাইকেল চালকেরা। তেল না পেলে কর্মস্থলে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং মজুদদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বৃষ্টিতে ভিজে লাইনে দাঁড়িয়ে তেলের অপেক্ষায় থাকা মানুষের দৃশ্য সংকটের গভীরতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
