আলভী মাহমুদ আলিফ প্রতিনিধি :
গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২, ব্লক-বি এলাকায় বিক্রমপুর স্যানিটারি ও হার্ডওয়্যার দোকানের সামনে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা পিস্তল দিয়ে গুলি করে পল্লবী থানা যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়া (৫০)-কে হত্যা করে। এ সময় পলায়নের সময় সন্ত্রাসীরা স্থানীয় জনতার ওপর গুলি চালালে একজন রিকশাচালক গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার পরপরই র্যাব-৪ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তবে কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী শুটাররা ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, পলাতক শুটার লোপন ও কাল্লু দেশ ত্যাগের উদ্দেশ্যে ঢাকায় অবস্থান করছে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৪ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা মহানগরীর রুপনগর থানাধীন ইস্টার্ণ হাউজিং এলাকা হতে মোঃ রাশেদ @ লোপন (৩৫) এবং উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ি এলাকা হতে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন @ কাল্লু (৪০)-কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে লোপনের দেওয়া তথ্যমতে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ১টি বিদেশী রিভলবার ও ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, রাজনৈতিক কোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। তারা কিলিং মিশনে অংশগ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে এবং জানায় এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যেখানে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন জড়িত ছিল। গ্রেফতারকৃতরা আরও জানায়, তারা পেশাদার শুটার এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একই মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোঃ মনির হোসেন সোহেল পাতা সোহেল (৩০) এবং ১৮টি মামলার আসামি মোঃ সুজন @ বুকপোড়া সুজন (৩৫)-কেও গ্রেফতার করেছিল র্যাব-৪।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
